দোষ দূর করা

যখন আমরা আমাদের সমগ্র জীবনের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা যে কোনও অন্যায় বা ভুলকে লক্ষ্য করি তখন আমরা অনুপাতের বাইরে এড়ানো বন্ধ করি। অপরাধবোধ নয়, ক্ষমার সাথে, আমরা এটার পুনরাবৃত্তি না করার সংকল্প করি।

ব্যাখ্যা

ক্ষমার অর্থ হল কোনো অপরাধ, ত্রুটি বা ভুলের প্রতি ক্রোধিত না হওয়া এবং মনে ক্ষোভ না রাখা। এটি মনের একটি ইতিবাচক অবস্থা যেটা আমাদের বিকাশ করতে হবে, অন্যরা যে ক্ষতিকারক কাজকর্ম করেছে এবং তারা যে ভুলগুলি করেছে শুধু তার প্রতিক্রিয়া হিসাবে নয়, বরং আমাদের নেতিবাচক কর্ম ও ভুলের প্রতিক্রিয়া হিসাবেও। এটা করার জন্য আমাদের দ্বারা কৃত কোনও নির্দিষ্ট কর্ম বা ভুল থেকে আমাদের নিজেদেরকে একজন ব্যক্তি হিসাবে আলাদা করতে হবে। আমরা যখন নিজেরা চিন্তা-ভাবনা করব তখন আমাদের পুরো জীবনের প্রসঙ্গে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে, আর যদি আমরা পুনর্জন্ম সম্পর্কিত বৌদ্ধ শিক্ষাকে গ্রহণ করে নিই তাহলে আমাদের অতীত ও ভবিষ্যতের সমস্ত জীবনও একইভাবে গ্রহণ করে নিতে হবে। আমরা যখন এই বৃহত্তর প্রসঙ্গে নিজেদেরকে বিবেচনা করার জন্য আমাদের মন উন্মুক্ত করি তখন আমরা দেখতে পাই আমরা যে নেতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছি বা ভুল করেছি সেটা ছিল একটি ছোটোখাটো ঘটনা। আমরা জীবনে আরও অনেক কিছুই করেছি আর যতক্ষণ না বুদ্ধ হতে পারছি আমরা অনিবার্যভাবে ভুল করেই যাব। আমরা যে ভুল বা অন্যায় করেছি যদি তার মাধ্যমে নিজেদেরকে চিহ্নিত করি আর সেটাকে আমাদের সঠিক পরিচয়রূপে ধরে রাখি তাহলে এর ফলস্বরূপ আমরা নিজেকে দোষী অনুভব করব।

নিজেদেরকে ক্ষমা করে দেওয়ার অর্থ আমরা যা করেছি সেটা ভুলে যাওয়াকে বোঝায় না অর্থাৎ যা হয়েছে এতে কিছু আসে যায় না। আমরা যে ক্ষতি করেছি বা যে ভুল করেছি আমরা তার দায়ভার নিই। কিন্তু আমরা দোষের সাথে সেটাকে ধরে রাখি না এবং নিজেদের উপরে ক্রোধিত হই না। আমরা আমাদের অন্যায় এবং ভুলগুলি স্বীকার করি আর সেগুলির সাথে নিজেদেরকে সনাক্ত করতে দিই এইভেবে যে, আমরা খারাপ মানুষ অথবা একটা নির্বোধ আর তারজন্য প্রয়োগ করি চারটি বিরোধী শক্তিঃ

  • অনুশোচনা বোধ করি
  • ক্ষতিকারক কর্ম বা ভুলের পুনরাবৃত্তি না করার জন্য নিজের সর্বাধিক প্রচেষ্টা করার সংকল্প করি।
  • জীবনে যে ইতিবাচক দিকটি রাখার চেষ্টা করছি সেটা পুনরায় নিশ্চিত করি।
  • আমাদের ভুলের সংশোধন করি, সম্ভব হলে আমাদের দ্বারা কৃত ক্ষতির নিবারণের জন্য ক্ষমা চাই। এছাড়াও যদি সম্ভব হয় কিছু ইতিবাচক কর্ম দ্বারা এটার সামঞ্জস্য বজায় রাখি।

ধ্যান

  • শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করে শান্ত হন।
  • আপনার দ্বারা কৃত ক্ষতিকারক কিছু স্মরণ করুন- সম্ভবতঃ আপনার কাজকর্ম বা শব্দ দিয়ে কাউকে আঘাত করা এবং কীভাবে আপনি যা করেছিলেন বা বলেছিলেন এবং তাই নিয়ে নিজেকে দোষী মনে করেছিলেন আর নিজের উপর রাগ করেছিলেন, পরে সেই বিষয়ে ভাবতে লেগেছিলেন।
  • আপনার পরিধিটি প্রসারিত করুন এবং আপনার পুরো জীবনের নিরিখে নিজেকে ভাবুন এবং সনাক্ত করুন যে এটি কেবল একটি ছোট-খাটো ঘটনা ছিল এবং এটা আবার হলেও, এখনও আপনার জীবনে আরও অনেক কিছু ঘটে চলেছে এবং ঘটতে থাকবেও।
  • উপলব্ধি করুন যে এই ভুলের সাথে নিজেকে চিহ্নিত করা এবং এটার সাথে আটকে থাকাটা আপনাকে দোষী মনে করায় এবং খারাপ বোধ করায়। আপনি নিজেকে খুব সীমাবদ্ধভাবে ভাবেন।
  • যেহেতু এটি আপনার সম্পূর্ণতার সঙ্গে মিল খায় না, তাই এটা দেখে সেই পরিচয়টি যেতে দিন।
  • তারপর আপনার সম্পূর্ণ জীবনের দিক থেকে নিজেকে আরও একবার দেখুন আর আপনি ইতিবাচকভাবে ও গঠনমূলকভাবে যা কিছু করেছেন তার প্রতি আনন্দিত হন।
  • স্বীকার করুন যে আপনি যা করেছিলেন সেটা একটা ভুল ছিল। আপনি কখনো কখনো ভুল করেই থাকেন- সেটা বিশেষ কিছু নয়।
  • যদিও আপনি যেটা করেছেন সেটা পরিবর্তন করা যায় না, তবে সেটা করে আপনি অনুতপ্ত। এর অর্থ হল আপনি এটা না করলে ভাল হতো।
  • আপনি ক্ষতিকারক কর্মটির পুনরাবৃত্তি না করতে যথাসাধ্য চেষ্টা করার সিদ্ধান্ত নিন। আপনি কীভাবে আচরণ করেন এবং কথা বলেন সে বিষয়ে সচেতন থাকার চেষ্টা করুন আর যখন ধ্বংসাত্মক কোনও কিছু করা বা বলার মতো অনুভব করেন তখন আপনি সংযমন অনুশীলন করুন।
  • আপনি আপনার জীবনে যে ইতিবাচক দিকটির দিকে এগোচ্ছেন সেটা পুনর্নিশ্চিত করুন অর্থাৎ আপনি আপনার দোষ এবং সমস্যামূলক ক্ষেত্রগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ করছেন আপনি আপনার পুর্ণসম্ভাবনাকে উপলব্ধি করছেন।
  • আপনি যে ব্যক্তি বা ব্যক্তিগুলিকে আঘাত করেছেন তাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করুন, কমপক্ষে আপনার মনে-মনে এবং যা করেছিলেন তার সমভারে তাদের জন্য ভাল কিছু করার কথা কল্পনা করুন। সিদ্ধান্ত নিন যে আপনার সাথে যদি সেই ব্যক্তির আবার দেখা-সাক্ষাৎ হয়, তাহলে আপনি যা কল্পনা করেছেন বাস্তবে সেটাই করবেন।

আপনি যে ভুল করেছেন তারজন্য পদক্ষেপগুলির পুনরাবৃত্তি করুনঃ

  • আপনার দ্বারা কৃত কিছু ভুলকে স্মরণ করুন- সম্ভবতঃ আপনার কম্পিউটার থেকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইল ভুল করে মুছে ফেলা হয়েছিল- এবং আপনি তারজন্য কীভাবে নিজের উপর রেগে গিয়েছিলেন এবং খুব দুঃখিত হয়েছিলেন, আর প্রতিজ্ঞা করেছিলেন এবং নিজেকে বোকা বলেছিলেন।
  • আপনার পরিধিটি প্রসারিত করুন এবং আপনার পুরো জীবনের নিরিখে নিজেকে ভাবুন আর সনাক্ত করুন যে এটা শুধু একটা ছোট-খাটো ঘটনা ছিল। এটা আবার হলেও, এখনও আপনার জীবনে অনেক কিছু ঘটে চলেছে এবং ঘটতে থাকবেও। আপনি বেশীরভাগ জিনিস সঠিকভাবে করেন।
  • উপলব্ধি করুন যে এই ভুলের সাথে নিজেকে চিহ্নিত করা এবং এটার সাথে আটকে থাকাটা আপনাকে ভয়ঙ্কর এবং বিরক্তি বোধ করায়। আপনি নিজেকে খুব সীমাবদ্ধভাবে ভাবেন।
  • যেহেতু এটি আপনার সম্পূর্ণতার সঙ্গে মিল খায় না, তাই এটা দেখে সেই পরিচয়টি যেতে দিন।
  • তারপর আপনার সম্পূর্ণ জীবনের দিক থেকে নিজেকে আরও একবার দেখুন। তারপর আপনি সঠিকভাবে ও ভালোভাবে যা কিছু করেছেন তার প্রতি আনন্দিত হন।
  • স্বীকার করুন যে আপনি যা করেছিলেন সেটা একটা ভুল ছিল। আপনি কখনো কখনো ভুল করেই থাকেন- সেটা বিশেষ কিছু নয়।
  • যদিও আপনি যেটা করেছেন সেটা পরিবর্তন করা যায় না, তবে সেটা করে আপনি অনুতপ্ত। এর অর্থ হল আপনি এটা না করলে ভাল হতো।
  • ভুলটির পুনরাবৃত্তি না করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করার সংকল্প নিন। আপনি কম্পিউটারে কাজ করার সময় মনোযোগী হওয়ার এবং সতর্ক থাকার চেষ্টা করবেন যাতে আপনি সবসময় সাবধান থাকতে পারেন।
  • আপনি আপনার জীবনে যে ইতিবাচক দিকটির দিকে এগোচ্ছেন সেটা পুনর্নিশ্চিত করুন- আপনি আপনার দোষ এবং ভুল-ত্রুটিগুলি কাটিয়ে ওঠার জন্য কাজ করছেন অর্থাৎ যেমন আপনি যা করছেন তার প্রতি মনোযোগ না দেওয়া এবং আপনার পুর্ণসম্ভাবনাকে উপলব্ধি না করা।
  • একটি শান্ত মনের অবস্থার সাথে সিদ্ধান্ত নিন যে ফাইলটিতে কী ছিল সেটা মনে করবেন এবং পুনরায় টাইপ করার চেষ্টা করবেন। তারপর এটাকে বাস্তবে করুন।

সারাংশ

আমরা যে ক্ষতি করেছি অথবা আমরা যে ভুল করেছি তারজন্য স্বয়ংকে ক্ষমা করে দেওয়ার অর্থ নিজের উপর ক্রোধিত হওয়া নয় অথবা এই মনে করা নয় যে আমরা খারাপ মানুষ এবং নিজেকে দোষী অনুভব করা বা নির্বোধ মনে করে নিজেদের অভিশাপ দেওয়া। আমরা যে অন্যায় বা ভুল করেছি শুধু তার ভিত্তিতে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধভাবে সনাক্ত করা বন্ধ করে দিই, কারণ আমরা দেখি যে এটা আমাদের জীবনের সম্পূর্ণতার সাথে মিল খায় না। আমরা আমাদের কর্মের জন্য দায়িত্ব নিই এবং সেগুলির সাথে মোকাবিলা করি। আমরা যা করেছিলাম সেটাকে ভুল স্বীকার ক’রে আমরা অনুশোচনা করি, সেটাকে পুনরাবৃত্তি না করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করি, জীবনে যে ইতিবাচক দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছি সেটাকে পুনর্নিশ্চিত করি এবং ক্ষমা যাচনা করি বা আমরা যে ক্ষতি করেছি তার নিবারণের জন্য ভাল কিছু করি অথবা আমরা আমাদের ভুল শুধরাই।

Top