উদ্বেগের সাথে কীভাবে মোকাবিলা করা যায়

বিশ্বকে প্রায়শই একটি উন্মাদ স্থানের মতো মনে হয়। শুধু খবরটি চালু করুন: সন্ত্রাসীরা আক্রমণ করতে চলেছে! অর্থনীতিতে বিপর্যয়! এবং পরিবেশ- এমনকি জিজ্ঞাসাও করবেন না। এইটুকুই যথেষ্ট যে আপনি সপ্তাহের বাকি সময়টুকু বিছানায় থাকতে চান।

এবং এটি ঠিক বাইরের পৃথিবী। আমরা আমাদের নিজের জীবনও মোকাবিলা করতে পেরেছি। আমরা পরবর্তী ছুটিতে কোথায় যাবো? আমরা কীভাবে সেই সহকর্মীর মুখোমুখি হব যিনি সবেমাত্র পদোন্নতি পেয়েছেন যা আমরা মরিয়া হয়ে কামনা করেছিলাম। প্রকৃতপক্ষে আমাদের জীবন নিয়ে কী করা যায়?

আমরা যখন তরুণ থাকি, তখন আমাদের বলা হয় যে আমরা যে কোনও কিছুতে পরিণত হতে পারি যা আমরা চাই। “আপনার স্বপ্ন অনুসরণ করুন,” তারা বলেছিল। কিন্তু আমাদের মধ্যে কয়জন স্বপ্নে বেঁচে আছি? আমাদের মধ্যে কয়জন আমাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফিডগুলির মধ্য দিয়ে স্ক্রোল করে (পাকায়), যারা সত্যিই তাদের স্বপ্নে বেঁচে আছে বলে মনে হয়? এই সমস্ত সৈকতের ছুটির দিন এবং নিখুঁত সাদা দাঁত- তারা জীবনের মূল চাবিকাঠিটি পেয়েছে, কিন্তু আমরা আটকে আছি স্বপ্নদর্শী কার্যালয়ে।

“সুখ”,-এর এই ধারণাটি পরীর গল্প (রুপকথা)-এর মতো অথবা অন্য কোনও বিজ্ঞাপনের স্লোগানের (আদর্শবাণী) মতো মনে হতে পারে, যা কোন অনির্দিষ্ট ভবিষ্যতের তারিখে উপভোগ করার জন্য আমরা এখন কাজ-কর্ম করি। তবে আমরা যতই পরিশ্রম করি না কেন, সুখের কোনও সম্ভাবনার প্রতিশ্রুতি (গ্যারান্টি) থাকে না। কিছু লোক ম্যাকডোনাল্ডসে কাজ শেষ করার জন্য পিএইচডি লাভ করে, অন্যরা অবিশ্বাস্যভাবে ধনী এবং বিখ্যাত হয়ে ওঠে, তা সত্ত্বেও কেবল হতাশাগ্রস্থ হয়ে আত্মহত্যা করে। এসব কিছু আমাদের জীবন সম্পর্কে উদ্বিগ্ন ক’রে তোলে এবং এটি সামাজিক উদ্বেগের দিকে পরিচালিত করে, যেখানে আমরা নিয়মিতভাবে নিজেকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করি। যখনই আমরা আমাদের চোখের সাথে অন্য কোনও ব্যক্তির সাথে সাক্ষাৎ করি, এটি অস্বস্তিকর এবং অনিরাপদ বোধ করে। তখন আমরা আমাদের স্মার্টফোনের পর্দার আড়ালে লুকনোর চেষ্টা করি।

এটি আমাদের সময়ের সংক্রামক মহামারী (প্লেগ)। এটি সম্ভবত এইড্‌স, ক্যান্সার বা হতাশার মতো বিপজ্জনক বলে মনে হয় না। তবে উদ্বেগটি আমাদের শক্তি নিষ্কাশন করে এবং অস্বস্তির একটি স্থির পটভূমির অনুভূতি তৈরি করে। এটিই তাই যা নতুন টিভি সিরিজগুলির সাথে আমাদের বিভ্রান্ত ক’রে তোলে এবং আমাদের ফেসবুক ফিডটি পাকিয়ে ফেলে। এর কারণ হল আমাদের চিন্তা-ভাবনার সাথে একা থাকা অসহনীয় বলে মনে করি। জিনিসগুলি সহনীয় করে তোলার জন্য আমাদের ইয়ার-ফোন এবং নিয়মিতভাবে সংগীত প্রয়োজন হয়।

এটিকে এমন হতে হবে না। আমরা সকলেই জানি আমাদের জীবনে যা আছে তার জন্য আমাদের কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত, এবং আমাদের কখনই নিজেকে অন্যের সাথে তুলনা করা উচিত নয়। কিন্তু আসলে এর অর্থটা কী? কীভাবে আমরা উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে পারি?

পিছনে ফিরে আসা

আমাদের পিছনে ফিরে আসতে হবে এবং আমাদের জীবনটাকে বিশ্লেষণ করতে হবে। এটা বিরক্তিকর লাগে, তবে আমরা এড়াতে পারি না। জীবন থেকে আমরা কী চাই? প্রত্যেকের জন্য সঠিক কোন উপায় নেই, তবে আমাদের আগে একই পথে মানুষ ছিল। হতে পারে আমরা একটা রকস্টার চাই, তবে যদি পাপারাজ্জি ২৪/৭ তাড়া করে, তাহলে কি আমরা সত্যিই খুশি হব? রকস্টাররা কি বছরের পর বছর সুখী থাকে? কয়জন মদ এবং মাদকের দিকে ঝোঁকে? তারপরে আমাদের চিন্তা-ভাবনা করতে হবে যে আমরা এটির জন্য সময় ও শক্তি যোগাতে চাই কি না।

একটি আদর্শ ভূমিকার সন্ধান করুন

যদি আমরা জীবনযাত্রার এমন কোনও উপায় খুঁজে পেয়ে থাকি যা জীবনকে আরও সুখী এবং সার্থক করে তোলে, তাহলে পরবর্তী পদক্ষেপটি হবে এমন কোনও ব্যক্তিকে খুঁজে পাওয়া যা এটি অঙ্গীভূত করে। একজন মহান সংগীতশিল্পী হওয়ার জন্য আমাদের অনুশীলন করার প্রয়োজন হয়; একজন ফুটবলার হওয়ার জন্য আমাদের অনুশীলন করা দরকার হয়; এমনকি সামান্য হাঁটার জন্যও আমাদের অনুশীলন করার প্রয়োজন হয়; যদিও আমরা এখন এটা মনে করতে পারি না। এখানে বার্তাটি হল “কারণ ছাড়া কোনও ফল হয় না”। জীবনে কোথাও পৌঁছতে উৎসর্গ দরকার হয়। একটি আদর্শ ভূমিকা আমাদের পরামর্শ দিতে পারে এবং অনুপ্রেরণার মহান স্রোত হয়ে উঠতে পারে।

অপরের সহায়তা করুন

আমাদের নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা এবং আকাঙ্ক্ষায় নিমগ্ন হওয়া খুবই সহজ। আমরা মূলত জীবন থেকে কী চাই এবং কী প্রয়োজন, তা ভেবে দেখি এবং প্রত্যেক বার কেউ আমাদের পথে এলে আমরা তা প্রকাশ করি। উদ্বেগের একটি বড় অংশ হ’ল বিচ্ছিন্ন বোধ করা, তবে অপরের সাথে যোগাযোগের সর্বোত্তম উপায় হ’ল প্রকৃতপক্ষে তাদের যত্ন নেওয়া। আমরা যদি কেবল নিজেদের কথা ভাবি, তাহলে আমরা দুস্থ হতে বাধ্য হয়ে যায়; অন্যদিকে আন্তরিকভাবে অপরের সহায়তা করা উদ্বেগ দূর করার জন্য এবং আমাদের সুখ বৃদ্ধির জন্য বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।

এটিকে বড় কিছু হওয়ার প্রয়োজন হয় না। বিষাদময় দিনে কারও দিকে হাসি বা কেবল আন্তরিকভাবে কাউকে ধন্যবাদ জানানোটাই উভয় পক্ষের মেজাজ ফুরফুরে করার পক্ষে যথেষ্ট। বাধ্যতমূলক অনুভূতি দিয়ে এটি করবেন না, বরং কারও দিনকে উজ্জ্বল করার জন্য প্রকৃত ইচ্ছা থেকে করবেন। পরে দেখুন আপনার মানসিক অবস্থার কী হয়?

আপনি কে তা বোধগম্য করুন

আমরা সবাই ভাবতে পছন্দ করি যে আমরা অদ্বিতীয়, কিন্তু এটি শুধু প্রমাণ করে যে আমরা সবাই সমান। আমরা যখন বলি, “আপনি কে তা বোধগম্য করুণ”, এটি আসলে আমরা কে তা বোঝার বিষয়। আমাদের সকলেরই সমস্যা আছে, এবং একটি নিখুঁত জীবন অস্তিমান হয় না। আপনারা যা মনে করেন সে সবকিছু বিশ্বাস করবেন না।

যেমন আমরা কখনও ফটো দেখাই না যেখানে আমরা মনে করি আমাদের খারাপ দেখায়, তেমনই অন্য লোকেরাও করে না। আমরা প্রকাশ্যে উপহাস হতে ভয় পাই, এবং অনুমান করুন কী? -অন্যরাও ঠিক তেমনই। যদিও আমরা এমন এক যুগে বাস করি আমরা সকলের সাথে নিখুঁত জীবন-যাপন করতে পারি, কিন্তু আমাদের ফাঁদে পড়লে হবে না। যদি আমরা এই বিষয়গুলি সম্পর্কে সচেতন থাকি, আন্তরিকভাবে অপরকে সুখী রাখার চেষ্টা করি এবং নিজের জীবনকে সার্থক করে তোলার চেষ্টা করি, আমাদের উদ্বিগ্ন ধীরে-ধীরে বিলীন হয়ে যাবে।

Top