যত্ন বিকাশ করা

আমাদের যেমন আছে ঠিক তেমনই অনুভূতির মানুষ হিসাবে বিবেচনা করে আমরা যত্ন এবং উদ্বেগ বিকাশ করি যে আমাদের আচরণ ও কথা বলার পদ্ধতিগুলি কীভাবে তাদের অনুভূতিগুলিকে প্রভাবিত করে।

ব্যাখ্যা

যেকোনো ধরণের ধ্যানের পূর্ব শর্তরূপে একবার যদি আমরা শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ ক’রে আমাদের মনকে শান্ত করে ফেলি, আমরা তখন একটি ইতিবাচক, গঠনমূলক মনের অবস্থা তৈরী করতে প্রস্তুত হয়ে যাই। অন্যদের সাথে কথোপকথনের জন্য, যেটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেটা হল তাদের জন্য আন্তরিক যত্ন এবং উদ্বেগ থাকা। এর অর্থ হল তাদেরকে মানুষ হিসাবে গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করা, তাদের মধ্যে যেমন অনুভূতি আছে ঠিক তেমনই রয়েছে আমাদের মধ্যে। যাইহোক, এই বাস্তবতার দৃষ্টি হারানো সহজ এবং যখন আমরা ব্যস্ত থাকি, চাপে থাকি বা কোনও উপায়ে নিজের মধ্যে ডুবে থাকি তখন আমরা অসংবেদনশীল হয়ে উঠি। তবে আমরা যত সংকীর্ণভাবে নিজের উপর, নিজের সমস্যা এবং অনুভূতির উপর মনোনিবেশ করি, ততই আমরা দুঃখিত হই। আমরা আমাদের চারপাশের বিস্তৃত বাস্তবের সংস্পর্শের বাইরে থাকি।

মানুষ হিসাবে আমরা সামাজিক প্রাণী; আমরা সকলেই আমাদের কল্যাণ ও হিতের জন্য একে-অপরের উপর নির্ভর করি। আমাদের তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার প্রয়োজন হয়। সুতরাং, অন্যদের সাথে বাস্তববাদী এবং স্বাস্থ্যকর উপায়ে মিথস্ক্রিয়ার জন্য আমাদের আন্তরিকভাবে তাদের কল্যাণ এবং তাদের হীতের কথা চিন্তা-ভাবনা করা দরকার। বিশেষতঃ তাদের বাস্তবিক পরিস্থিতি এবং অনুভূতির প্রতি আমাদের সংবেদনশীল হতে হবে, বিশেষ করে আমরা যেভাবে তাদের সাথে মিথস্ক্রিয়া করি তার প্রতিক্রিয়াতে।

ঠিক আমরা যখন কারও সাথে দেখা করি, দিনের প্রথম দিকে আমরা যা অনুভব করেছি সেটা আমাদের মেজাজকে প্রভাবিত করেছে, এটা তার ক্ষেত্রেও সত্য। যখন আমরা তাদের সাথে দেখা করি তাদের মেজাজটা কোথাও থেকে উদয় হয়ে আসে না। তারা যে মেজাজে আছে সেটা আমাদের কথাবার্তাকেও প্রভাবিত করে, যেমন আমাদের। আমরা যদি সত্য এবং বাস্তবতার প্রতি সংবেদনশীল না হই, নিজেদের এবং তাদের উভয়েরই সম্মানের, আমাদের কথাবার্তায় আমরা যা চাই তার থেকে আলাদা হতে পারে। তদুপরি, আমরা কীভাবে তাদের সাথে কথা বলি এবং আমরা কীভাবে তাদের সাথে আচরণ করি সেটা তাদের অনুভূতিকে প্রভাবিত করবে, ঠিক যেমনভাবে তারা আমাদের সাথে কথা বলে এবং আমাদের সাথে আচরণ করে সেটা আমাদেরকে প্রভাবিত করবে।

যখন আমরা এই ঘটনাগুলি নিজেদেরকে স্মরণ করিয়ে দিই এবং আমরা সেগুলি স্মরণে রাখি যখনই আমরা তাদের সাথে থাকি- বন্ধুই হোক, অচেনা মানুষ বা আমরা পছন্দ করি তেমন মানুষই হোক- আমাদের মিথস্ক্রিয়া আমাদের এবং তাদের উভয়ের কাছেই আরও ফলপ্রসু এবং সন্তোষজনক হয়ে উঠবে।

ধ্যান

  • শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর মনোনিবেশ করে শান্ত হন।
  • শান্ত মনের দ্বারা, বিচারযোগ্য না হয়ে, এমন কাউকে ভাবুন যাকে আপনি ঘনিষ্ঠ মনে করেন এবং তার সাথে থাকতে চান।
  • আপনি যে একজন মানুষ এবং আপনার অনুভূতি রয়েছে সেই বোধগম্যতার সাথে তাদের সম্মান করুন।
  • যেমন আমার আছে।
  • আপনি যে মেজাজে রয়েছেন সেটা আমাদের বার্তালাপকে প্রভাবিত করবে,
  • যেমন আমার মেজাজ এটাকে প্রভাবিত করবে।
  • আমি আপনার সাথে কীভাবে আচরণ করি এবং যা বলি সেটা আপনার অনুভূতিগুলিকে আরও প্রভাবিত করবে।
  • অতএব, আমি যেমন আশা করি যে, আপনি আমার সম্পর্কে এবং আমাদের বার্তালাপে আমার অনুভূতি সম্পর্কে যত্নশীল, যেমন আমি আপনার যত্ন করি; আমি আপনার অনুভূতির যত্ন নিই।
  • মুভি, থিয়েটারে আপনার টিকিট নিয়ে যাওয়া এমন একজন ব্যক্তির মতো, যিনি কেবল আপনার পরিচিত অথবা অপরিচিত, এমন একজন যার প্রতি আপনার কোনো বিশেষ অনুভূতি নেই, এমন কারও প্রতি মনোনিবেশ করার সময় পুরো ক্রমটির পুনরাবৃত্তি করুন।
  • আপনি পছন্দ করেন না এবং তার সাথে থাকতে অস্বস্তিবোধ করেন এমন কারও উপর মনোনিবেশ করে পুরো ক্রমটি পুনরাবৃত্তি করুন।

সারাংশ

এই ধ্যানের অনেক প্রয়োগ রয়েছে এবং এটি ব্যাপকভাবে প্রসারিত করা যেতে পারে। উপরোক্ত তিনটি শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন বয়সের, বিভিন্ন লিঙ্গ, বিভিন্ন জাতি ইত্যাদি মানুষের উপর আমরা মনোনিবেশ করতে পারি। আমরা ধ্যান করতে আমাদের উপরও মনোনিবেশ করতে পারি। আমরাও একজন মানুষ এবং আমাদের অনুভূতি আছে; এবং যেভাবে আমরা আমাদের নিজের সাথে আচরণ করি এবং আমাদের সম্পর্কে আমরা মনে-মনে কথা বলি সেটা আমাদের অনুভূতিকে ভীষণভাবে প্রভাবিত করবে। এই ভাবেই আমরা নিজের প্রতিও যত্নশীল মনোভাব গড়ে তুলতে পারি।

Top