বোধিচিত্ত বিকাশের জন্য সপ্তাংশ কারণ এবং ফলের ধ্যান

অন্যকে যথাসম্ভব সম্পূর্ণরূপে সহায়তা করার জন্য বুদ্ধত্ব লাভ করার লক্ষ্য বা প্রার্থনা হল বোধিচিত্ত। এই লক্ষ্যটি বিকাশ করার জন্য নির্ধারিত সপ্তাংশ কারণ এবং ফল পদ্ধতি, আর এটা বিকশিত হওয়ার পর এটাকে আরও দৃঢ় করে আমরা সমতা ভাবনার সাথে অনুশীলন শুরু করি। এটা করার জন্য আমরা সকলকে আমাদের মায়ের মতো মনে ক’রে, তাদের মাতৃ-স্নেহ বা ভালবাসা স্মরণ ক’রে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতার ভাবনা জাগিয়ে তাদের কৃতজ্ঞতা শোধ করার জন্য আমরা অগ্রসর হই আর আমরা এটা করি আমাদের আবেগ এবং বোধগম্যতার একটা অনুক্রমের মাধ্যমে। সকলের প্রতি মৈত্রী এবং করুণার ভাবনা, একটা অসাধারণ সংকল্প এবং কারণ সম্পর্কিত এই ক্রমের ফলস্বরূপ বোধিচিত্তের লক্ষ্য বিকশিত হয়।

পরিচয়

আমাদের কাছে আছে সমস্ত অবকাশ এবং সম্পদ সম্পন্ন মানব জীবন যা আমাদের বৌদ্ধ পথ অনুসরণ করার অবকাশ প্রদান করে। কিন্তু এই অবকাশ বা স্বাধীনতা এবং সুযোগগুলি চিরকালের জন্য স্থায়ী হয় না। অতএব আমাদের কাছে বর্তমানে যে সুযোগগুলি রয়েছে তা থেকে আমাদের পুরোপুরি সদ্ব্যবহার করা প্রয়োজন।

আমাদের মূল্যবান মানব জীবনের সদ্ব্যবহার করার সর্বোত্তম উপায়টি হল বোধিচিত্তের লক্ষ্যটি বিকাশ করার জন্য ব্যবহার করা। বোধিচিত্ত লক্ষ্য বলতে আমাদের মন এবং হৃদয়কে বোঝায় যা আমাদের নিজস্ব বোধিকে মনোনিবেশ করে যেটা এখনও প্রাপ্ত হয়নি, তবে আমাদের বুদ্ধ-স্বভাব (তথাগতগর্ভ)- এর কারণগুলির ভিত্তিতে আমাদের চিত্ত-সন্ততির উপর নির্ভর ক’রে চিহ্নিত করা যেতে পারে যা এটাকে অর্জন করতে সক্ষম করে তোলে। এই কারণগুলির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে আমাদের ইতিবাচক শক্তি, গভীর সচেতনতার নেটওয়ার্ক, আমাদের বিভিন্ন ভালো গুণ এবং আমাদের মনের প্রাকৃতিক বিশুদ্ধতা। এই বোধিচিত্ত লক্ষ্যটি দুটো প্রয়োজনের সাথে যুক্ত হয়ে আছেঃ যথাশীঘ্র বোধি লাভ করা এবং তার মাধ্যমে সমস্ত প্রাণীর কল্যাণ করা।

বোধিচিত্তকে বিকাশ করার সময় আমরা দুটি উদ্দেশ্যকে বিপরীতক্রমে বিকাশ করি। প্রথমতঃ আমরা সমস্ত প্রাণীর কল্যাণ করার জন্য লক্ষ্য নির্ধারণ করি, শুধু মানুষ মাত্রের জন্য নয়। এটা আমরা করি আমাদের মৈত্রী, করুণা এবং অসাধারণ সংকল্পের সহায়তায়। এই বিষয়ে আমরা পরবর্তী বক্তৃতায় আলোচনা করব। তারপর সবচেয়ে কার্যকর ভাবে তাদের কল্যাণ করার জন্য আমরা বোধিলাভ করতে এবং বুদ্ধত্ব লাভ করতে সম্পূর্ণভাবে সংকল্পবদ্ধ হই। আমাদের সমস্ত সীমাবদ্ধতা এবং ভুল-ত্রুটিগুলি থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য আমাদের বোধিলাভ করার প্রয়োজন হয়, কারণ আমরা বুঝতে পারি যে তারা আমাদের অপরকে সাহায্য করতে সর্বোত্তমভাবে বাধা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, আমরা যদি অন্যের উপর রেগে যাই তাহলে আমরা কীভাবে ঐ সময় তাদের সহায়তা করতে পারব? এছাড়াও, আমাদের সমস্ত সম্ভাব্যতা উপলব্ধি করার জন্য আমাদের বোধিলাভ করতেই হবে। অন্যদের উপকারে সেগুলি ব্যবহার করতে সক্ষম হওয়ার জন্য আমাদের সেগুলি পুরোপুরি উপলব্ধি করতে হবে। বোধিচিত্তের লক্ষ্য বিকাশ করার সময় আমরা প্রথমেই বুদ্ধ হতে চাই না এই মনে করে যে, বুদ্ধত্বটা হল সর্বোচ্চ অবস্থা এবং ন্যাকারজনক করের মতো বুদ্ধ হয়ে যাওয়ার পর আমাদেরকে পরকল্যাণ করতে হবে, সেটাও আমরা চাই না।

বোধিচিত্তের লক্ষ্য বিকাশের দুটি পদ্ধতি আছে। একটি হল সপ্তাংশ কারণ এবং ফল-উপদেশ আর অন্যটি হল স্ব-পর সমতা ও স্ব-পর মনোভাবের বিনিময়। এখানে আমরা উপরোক্ত দুটি পদ্ধতির মধ্যে প্রথমটি নিয়ে আলোচনা করব।

Top