আসক্তিঃ অশান্তকারী আবেগগুলির মোকাবিলা করা

কোন ব্যক্তির প্রতি অশান্তকারী আবেগ (ক্লেশ) রূপী আসক্তি আমাদের মনের শান্তি এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ নষ্ট ক’রে দেয়। এই কারণে আমরা কোন ব্যক্তির ভাল গুণাবলীকে, যেমন- তাদের চেহারাকে অতিরঞ্জিত ক’রে দেখি, এবং ব্যক্তিকে বস্তুতে পরিণত ক’রে সেটাকে আঁকড়ে ধরে রাখতে চাই ও সেটাকে ছাড়তে চাই না। কিন্তু ধ্যান-সাধনার বিভিন্ন পদ্ধতির সহায়তায় আমরা আমাদের আসক্তিকে কাটিয়ে উঠতে পারি এবং সেই ব্যক্তির সাথে একটি সুস্থ সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারি।

আমাদের সমস্ত অশান্তকারী আবেগ এবং মনোভাবের মূলে তাদের গভীরতম কারণ হিসাবে রয়েছে অসচেতনতা। আর এই অসচেতনতা হেতু এবং ফল সম্পর্কিত হতে পারে- আমাদের আচরণের ফলের বিষয়- অথবা সাধারণতঃ বাস্তবতা সম্পর্কে অসচেতনতা হতে পারে। আচরণগত হেতু এবং ফল সম্পর্কিত অসচেতনতা ধ্বংসাত্মক আচরণ এবং ভুল কাজ করার জন্য দায়ী বলে বর্ণনা করা হয়। তবে বাস্তবিকতা এবং পরিস্থিতির বিষয়ে অসচেতনতা যেকোন ধরণের সাংসারিক আচরণের আধার হতে পারে, তাতে সেই আচরণ গঠনাত্মক হোক অথবা ধ্বংসাত্মক। সুতরাং, আমরা যদি দেখতে চাই যে কীভাবে অসচেতনতা আমাদের অশান্তকারী আবেগ এবং অশান্তকারী মনোভাবে অন্তর্নিহিত আছে। তাহলে আমাদের পরিস্থিতিগুলির বিষয়ে অসচেতনতা এবং বাস্তবতার বিষয়ে অসচেতনতার উপর আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।

এখন, এই “বাস্তবতা” শব্দটি হল একটা মজার শব্দ। এটারও অনেকগুলি আলাদা-আলাদা অর্থ হতে পারে। এর জন্য সাধারণতঃ “সত্য” শব্দের প্রয়োগ করা হয়, কোন বস্তুর বিষয়ে সত্য। যেকোন বিষয়ের দুটি সত্য থাকে। একটা হল আপেক্ষিক, সাংবৃতিক বা অগভীর সত্য, সেটা হল যে কোন বস্তু যেমন প্রতীয়মান হয় আর অন্যটা হল পরমার্থ সত্য। এটা হল যে, কোন বস্তু বাস্তবে যেভাবে অস্তিমান। এটা এমন নয় যে, একটা সত্য অন্য কোন সত্যের থেকে অধিক সত্য, যেমন আমরা সত্যের “স্তর”-এর অভিব্যক্তি দ্বারা দেখতে পারি। তারা উভয়ই সত্য। আমি এই দুটির মধ্যে দ্বিতীয় সত্যের জন্য “পরম” শব্দের প্রয়োগ করা পছন্দ করি না, কারণ পরম শব্দের প্রয়োগ করলে মনে হয় যেন, এটা প্রথম সত্যের থেকে অধিক যথার্থ; পরিবর্তে আমি “গভীর” শব্দের প্রয়োগ করা পছন্দ করি। এইজন্য, দুটি সত্য কেবল অগভীর সত্যরূপে দর্শায় অর্থাৎ কোন বস্তু যেমন প্রতীয়মান হয় এবং গভীর সত্য দেখায় যে, সেই বস্তুটা যেভাবে অস্তিমান।

Top