বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘের স্তরসমূহ
এখন পর্যন্ত আমাদের আলোচনায়, আমরা শরণের ধ্যানের সাধারণ কাঠামো দেখেছি, যা আমাদের জীবনে একটি নিরাপদ দিকনির্দেশনা স্থাপন করে। এখন, আমরা এই দিকনির্দেশনাটি কোনদিকে যাচ্ছে, তার একটি নির্দিষ্ট বিবরণ পেতে পারি। এটি বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘ – এই ত্রিরত্ন দ্বারা বর্ণিত ও নির্দেশিত হয়। এদের প্রত্যেকের একটি গভীরতম স্তর, একটি দৃশ্যমান স্তর (যা আমরা দেখতে বা শুনতে পাই) এবং তারপর একটি স্তর রয়েছে যা সেটির প্রতিনিধিত্ব করে। এই তিনটি ভিন্ন স্তরের মধ্যে পার্থক্য করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
এই তিনটির প্রত্যেকটির গভীরতম স্তরগুলো তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্যকে নির্দেশ করে – অর্থাৎ, যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা – তবে কিছুটা ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে। এগুলো হলো সেই গভীরতম স্তর যার জন্য আমরা লক্ষ্য স্থির করেছি; অন্য কথায়, সেগুলোকে অর্জন করাই হলো সেই পথ যেদিকে আমরা যেতে চাই। যদি আমরা সেগুলোকে অর্জন করতে পারি, তবে তা আমাদের নিজেদের মধ্যে অথবা অন্যদের সাথে আচরণের ক্ষেত্রে যেকোনো ধরনের অসুবিধা বা সমস্যা এড়াতে সক্ষম করবে।
বুদ্ধ রত্নের গভীরতম স্তর হলো একজন বুদ্ধের মানসিক ধারার উপর অবস্থিত যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা। একজন বুদ্ধের মনের সমস্ত সদগুণ এই দুটিরই ফল। সেই কারণে, যখন আমরা একজন বুদ্ধের মনের সদগুণ সম্পর্কে জানতে পারি এবং সেইজন্য নিজেদেরকে একজন বুদ্ধের কাছে সমর্পণ করি ও সমস্ত দুঃখ এবং তার কারণ থেকে মুক্তি পাওয়ার পদ্ধতির জন্য তাঁর নির্দেশনা অনুসরণ করি, তখন আমরা আসলে নিজেদেরকে একজন বুদ্ধের মানসিক ধারার উপর অবস্থিত যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনার কাছেই সমর্পণ করি।
সাধারণত, যখন আমরা চারটি আর্য সত্যের কথা বলি, তখন আমরা এমন বিষয় নিয়ে কথা বলি যা একজন ব্যক্তির মানসিক ধারায় ঘটে এবং চিত্ত দিয়ে অনুভব করা হয়; আমরা কোনো বিমূর্ত বিষয় নিয়ে কথা বলি না। উদাহরণস্বরূপ, প্রথম দুটি আর্য সত্য, অর্থাৎ প্রকৃত দুঃখ এবং দুঃখের প্রকৃত উৎস, এমন বিষয় যা আমরা সকলেই অনুভব করি। কিন্তু আমরা সেগুলোর এক যথার্থ রোধ অর্জন করতে চাই, যার অর্থ হলো দুঃখ এবং দুঃখের কারণগুলো থেকে সম্পূর্ণরূপে মুক্তি পাওয়া। এই যথার্থ রোধ কোথায় ঘটে? এটিও একটি মানসিক ধারাবাহিকতায় ঘটে, যা স্বভাবতই প্রকৃত দুঃখ এবং তার প্রকৃত কারণগুলো থেকে মুক্ত। সেগুলোর যথার্থ রোধ মানে হলো, সেগুলো আর মানসিক ধারাবাহিকতায় উপস্থিত থাকে না এবং তাই আর অনুভূতও হয় না।
আমরা কীভাবে এই ধরনের যথার্থ রোধ লাভ করি? এটি ঘটে শূন্যতার এক অ-ধারণাগত উপলব্ধির মাধ্যমে, যা চিত্তের মধ্যেই বিদ্যমান। এই অ-ধারণাগত উপলব্ধিকে একটি “সত্য মার্গ-চেতনা” বলা হয়। অন্য কথায়, এটি এমন একটি উপলব্ধি যা কোনো একটি দিকে নিয়ে যায়; এটি যথার্থ রোধের দিকে পরিচালিত করে। একারণেই আমি একে “মানসিক পথ” বলি। তবে, প্রকৃত পথ-মন কেবল সেই অ-ধারণাগত উপলব্ধিগুলোই নয় যা প্রকৃত নিবৃত্তির দিকে নিয়ে যায়, বরং এগুলো সেই ধরনের উপলব্ধিও যা যথার্থ রোধ অর্জনের ফলস্বরূপ লাভ করা যায়।
এইগুলিই হলো চারটি আর্য সত্য –দুঃখ সত্য, দুঃখ সমুদয় সত্য, দুঃখ নিরোধ সত্য এবং দুঃখ নিরোধ মার্গ সত্য, এবং এই সবই একটি মানসিক ধারার উপর বিদ্যমান।
আমরা নিজেরাও এই যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা লাভ করতে পারি, এই আত্মবিশ্বাস অর্জনের জন্য আমাদের তাঁদের দৃষ্টান্তের দিকে দৃষ্টিপাত করতে হবে যাঁরা এগুলি লাভ করেছেন; তাঁদের নির্দেশনার উপর নিজেদের সঁপে দিতে হবে এবং তারপর তাঁরা যেদিকে নির্দেশ করেন সেদিকে অগ্রসর হতে হবে। সুতরাং, ত্রিরত্নের গভীরতম স্তর হলো সেইসব ব্যক্তিদের মানসিক ধারার উপর অবস্থিত এই যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা, যাঁরা এগুলি লাভ করেছেন।
বুদ্ধগণ হলেন তাঁরা, যাঁদের মানসিক ধারার উপর সমস্ত যথার্থ রোধ এবং সমস্ত সত্য মার্গ-চেতনার একটি সম্পূর্ণ সেট রয়েছে। আর্য ও অর্হতগণ হলেন তাঁরা, যাঁদের মানসিক ধারার উপর এগুলির কয়েকটি রয়েছে, কিন্তু সবগুলি নয়। সুতরাং, গভীরতম বুদ্ধরত্ন হলো বুদ্ধগণের মানসিক ধারার উপর অবস্থিত এই যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা; এবং, একটি শাস্ত্রীয় সূত্র অনুসারে, গভীরতম ধর্ম ও সংঘ উভয় রত্নই হলো সকল আর্যদের (যার মধ্যে অর্হত ও বুদ্ধগণ অন্তর্ভুক্ত) মানসিক ধারার প্রকৃত নিভৃতি এবং সত্য মার্গ-চেতনা। এই বিষয়টি কিছুক্ষণ গভীরভাবে ভাবুন।
[ধ্যান]
ত্রিরত্নের গভীরতম, আপাত এবং প্রতিনিধিত্বমূলক স্তরসমূহ
একজন বুদ্ধের মানসিক ধারার সমস্ত যথার্থ রোধ এবং সমস্ত সত্য মার্গ-চেতনার সম্পূর্ণ সেট – অন্য কথায়, গভীরতম বুদ্ধরত্ন – প্রকৃতপক্ষে একজন বুদ্ধের ধর্মকায়, যা সবকিছুকে পরিবেষ্টনকারী একটি সংকলন। একটি ধর্মকায়ের দুটি দিক রয়েছে। একজন বুদ্ধের গভীর বোধ ধর্মকায় – একটি জ্ঞান ধর্মকায় – একজন বুদ্ধের সর্বজ্ঞ মনের ধারার সত্য মার্গ-চেতনা সমূহকে বোঝায়; একজন বুদ্ধের সারসত্তা ধর্মকায়– একটি স্বভাবকায়– একজন বুদ্ধের সর্বজ্ঞ মনের যথার্থ রোধ সমূহকে বোঝায়। আরও বিশদভাবে বলতে গেলে, স্বভাবকায় হলো বুদ্ধের মনের দ্বৈত পবিত্রতা, যা অশান্ত আবেগের ক্ষণস্থায়ী কলুষতা থেকে এবং স্বাভাবিকভাবেই স্ব-প্রতিষ্ঠিত অস্তিত্বের কলুষতা থেকে বিচ্ছিন্ন। সেই স্বাভাবিক পবিত্রতাই হলো বুদ্ধের সর্বজ্ঞ মনের শূন্যতা। সুতরাং, ধর্মকায় হলো বুদ্ধের মনে বিরাজমান তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্য।
দৃশ্যমান বুদ্ধরত্ন হলো যা আমরা দেখতে পাই; অর্থাৎ, একজন বুদ্ধের রূপসমূহের সমষ্টি, বা রূপকায়সমূহ। এর মধ্যে রয়েছে সম্ভোগকায়, যা মহাযান শিক্ষার পূর্ণ ব্যবহারকারী কায়, এবং নির্মাণকায়, যা সম্ভোগকায়েরই প্রকাশ। সম্ভোগকায় এবং পরম নির্মাণকায় বুদ্ধদের দেহের বত্রিশটি উৎকৃষ্ট চিহ্ন এবং আশিটি অনুকরণীয় বৈশিষ্ট্য নির্দেশ করে যে, একজন বুদ্ধ পূর্বজন্মে সেইসব গঠনমূলক কর্ম অনুশীলন করেছেন যার ফলে তিনি এই ধরনের দেহ লাভ করেছেন। এইভাবে, এই চিহ্ন এবং বৈশিষ্ট্যগুলিও সেই দিক নির্দেশ করে যেদিকে আমরা যেতে চাই। অতএব, আমরা এই রূপকায়গুলির নির্দেশনার উপর নিজেদের সঁপে দিতে পারি।
বুদ্ধের চিত্রকর্ম এবং মূর্তিগুলিই হলো বুদ্ধরত্নের প্রতীক। এটা বোঝা গুরুত্বপূর্ণ যে সেগুলি কেবলই প্রতীক; আমরা সেগুলির পূজা করি না বা এমন কিছু করি না। তবে, আমরা সেগুলিকে সম্মান করি কারণ সেগুলি এমন কিছুর প্রতিনিধিত্ব করে যার প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে।
আবার, গভীরতম ধর্মরত্ন হলো তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্য, কিন্তু এখন, শুধু বুদ্ধের সর্বজ্ঞ মানসিক ধারার অন্তর্ভুক্ত সত্যগুলোই নয়, বরং গৃহী ও ভিক্ষু উভয় প্রকার আর্যদের মানসিক ধারায় বিদ্যমান সেই সমস্ত সত্য। “সকল আর্য”-এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত আছেন তারা, যাদের মানসিক ধারায় অন্তত কিছু সংখ্যক সত্য মার্গ-চেতনা এবং যথার্থ রোধ রয়েছে; এদের শুরু হয় সেইসব ব্যক্তি থেকে যারা দর্শনকারী মার্গ সত্য, অর্থাৎ তথাকথিত “দর্শনের পথ” অর্জন করেছেন এবং এই দুটির আংশিক সেট লাভ করেছেন; এবং একেবারে বুদ্ধ পর্যন্ত, যারা এই দুটির সম্পূর্ণ সেট লাভ করেছেন।
আপাত ধর্মরত্ন, যা আমরা শুনতে পাই, তা হলো প্রকৃত শিক্ষা—বুদ্ধের শিক্ষা যা বারোটি শাস্ত্রীয় শ্রেণীতে বিভক্ত। আমরা আমাদের প্রকৃত পথনির্দেশের জন্য সেগুলোর উপর নিজেদের অর্পণ করি। যে ধর্মগ্রন্থ ও গ্রন্থগুলোর বিষয়বস্তু হিসেবে এই আপাত ধর্মরত্ন রয়েছে, সেগুলোই এই ধর্মরত্নের প্রতিনিধিত্ব করে। একইভাবে, আমরা সেগুলোর প্রতিও শ্রদ্ধা প্রদর্শন করি।
পূর্বেই যেমন উল্লেখ করা হয়েছে, গভীরতম সংঘ রত্ন হলো গভীরতম ধর্ম রত্নেরই অনুরূপ, যা সকল আর্যদের মানসিক ধারার তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্য। আপাত সংঘ রত্ন, যা আমরা দেখতে পাই, তা হলো প্রকৃত আর্য ব্যক্তিরা। তাঁরা এমন ব্যক্তি যাঁরা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এবং এর মাধ্যমে আমাদের চলার পথ দেখাতে পারেন। বুদ্ধের সঙ্গে একাত্মহওয়া কঠিন, কিন্তু আর্য ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তের মাধ্যমে আমরা ধাপে ধাপে বুদ্ধত্বে পৌঁছানোর উপায় শিখতে পারি।
সংঘের প্রতিনিধিত্ব করে চার বা ততোধিক পূর্ণ দীক্ষিত ভিক্ষু বা ভিক্ষুণীর একটি দল। তাঁদের সবাইকে একই দলের হতে হবে এমন নয় – কেবল চারজন হলেই একটি সম্প্রদায় তৈরি হয়। তাঁরা খুব ভালো ভিক্ষু বা ভিক্ষুণী না হলেও, গৃহস্থ জীবন ত্যাগ করেছেন—এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এই পথের প্রতি নিজেদের উৎসর্গ করছেন, যা আমাদের দেখায় যে এই লক্ষ্যে পৌঁছানোর বিভিন্ন ধাপ রয়েছে। এটি আরও ইঙ্গিত দেয় যে, অন্তত তাত্ত্বিকভাবে, এমন মানুষ আছেন যাঁরা এই লক্ষ্যের দিকে কাজ করে চলেছেন। অতএব, সকল ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীগণ শ্রদ্ধার যোগ্য।
পুনরালোচনা করলে দেখা যায়, ত্রিরত্নের প্রত্যেকটিরই গভীরতম, আপাত এবং প্রতিনিধিত্বমূলক স্তর রয়েছে। গভীরতম স্তরগুলো হলো সমস্ত বিভ্রান্তির যথার্থ রোধ এবং সত্য মার্গ-চেতনা অথবা মানসিক সন্ততির (ধারাবাহিকতার) পথ; বুদ্ধরত্নের ক্ষেত্রে, তা বুদ্ধের সর্বজ্ঞ মানসিক ধারার উপর অবস্থিত; অথবা ধর্ম ও সংঘরত্নের ক্ষেত্রে, তা যেকোনো আর্যের মানসিক ধারার উপর অবস্থিত, যা বুদ্ধের চিত্ত পর্যন্ত বিস্তৃত। আপাত-স্তরের রত্নগুলো, যেগুলো আমরা বাস্তবে দেখতে বা শুনতে পাই, সেগুলো হলো বুদ্ধের রূপকায়, প্রকৃত শিক্ষা এবং আর্যে পরিণত হওয়া ব্যক্তিদের সম্প্রদায়। প্রতিনিধিত্বমূলক রত্নগুলো, যেগুলো আমাদের বাড়িতে বা আশেপাশে থাকতে পারে, সেগুলো হলো বুদ্ধের চিত্র ও মূর্তি, প্রকৃত ধর্মগ্রন্থ এবং পূর্ণরূপে দীক্ষিত ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীগণ। এগুলো আমাদের পথের কথা এবং আমরা যা অর্জন করতে চাই, অর্থাৎ গভীরতম রত্নগুলোর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
যাঁরা গূঢ়তম রত্ন লাভ করেছেন, তাঁরা আমাদের পথ দেখাতে পারেন; কিন্তু আমরা তাঁদের অর্জিত বিষয়ের দিকেই লক্ষ্য রাখছি, আমাদের নিজস্ব মানসিক ধারায়। তাঁদের মানসিক ধারায় যা আছে, আমরা তার দিকে লক্ষ্য রাখছি না, কারণ আমরা কেবল আমাদের নিজেদের মানসিক ধারায় যা আছে, তাই লাভ করতে পারি। এখন পর্যন্ত আমরা এই বিষয় নিয়েই কথা বলে আসছি – সমস্যার এই বিভিন্ন কারণগুলোকে থামানো এবং সেগুলোর দ্বারা সৃষ্ট সমস্যাগুলোকে থামানো: যেমন অশান্তকারী আচরণ, অশান্ত আবেগ, বাধ্যতামূলক ইতিবাচক আচরণ অথবা কেউ সাহায্য না চাইলেও সাহায্য করা ইত্যাদি। আমরা অন্যদের কীভাবে সাহায্য করতে হয়, তা না জানার বিষয়টিকেও সত্যিকার অর্থে থামাতে চাই। আমরা সেই বোধ, শৃঙ্খলা, একাগ্রতা, মৈত্রী ও করুণা এবং এই সমস্ত কিছু অর্জন করতে চাই যা এই সমস্যা সৃষ্টিকারীদের থামিয়ে দেবে। আমরা এতক্ষণ যা কিছু নিয়ে কথা বলেছি, তার সবই তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্যের দিকে ধাবিত হয়েছে এবং প্রথম ও দ্বিতীয় আর্য সত্যকে বর্জন করেছে। বৌদ্ধধর্ম মূলত এই বিষয় নিয়েই। এই সবকিছুই ঘটছে মনের মধ্যে, আমাদের মনের মধ্যে। এই কথাটা কিছুক্ষণ ভাবুন।
[ধ্যান]
গূঢ়তম বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘ রত্নের মধ্যে পার্থক্য
স্বাভাবিকভাবেই যে প্রশ্নটি ওঠে তা হলো: গূঢ়তম বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘ রত্নের মধ্যে পার্থক্যগুলো কী কী? কেন এই তিনটির গূঢ়তম রত্ন হিসেবে প্রায় একই জিনিস, অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ আর্য সত্যকে আমরা দেখি?
এর উত্তর আমরা একটি আশ্চর্যজনক জায়গায় খুঁজে পাই: লামা ছোয়ে পা—গুরু পূজার—ছোগ নিবেদন অংশে। যখন আমরা বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘকে নিবেদন করি, তখন শাস্ত্র বলে যে বুদ্ধগণ হলেন প্রকৃত সিদ্ধি লাভের উৎস, ধর্ম হলো অনুপ্রেরণার উৎস, এবং সংঘ হলো বোধিলাভক প্রভাব বা বোধিলাভক কার্যকলাপের উৎস, কারণ আমরা যথাক্রমে বুদ্ধ, ধর্ম এবং সংঘের কাছে এগুলোর প্রত্যেকটিই প্রার্থনা করি। সেখানে ডাকিনী এবং ধর্ম-রক্ষকদের দ্বারা সংঘের প্রতিনিধিত্ব করা হয়।
এই সবকিছুর অর্থ কী? আসলে, এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করা খুবই সহায়ক। বুদ্ধগণ সেই যথার্থ রোধ ও প্রকৃত পথচিন্তার পূর্ণ সিদ্ধি লাভ করেছেন, যা আমরা অর্জন করতে চাই। প্রকৃত সিদ্ধিকে সংস্কৃতে সিদ্ধি বলা হয়। গূঢ়তম ধর্মরত্ন, সকল আর্যের যথার্থ রোধ ও সত্য মার্গ-চেতনা— এ সবই অনুপ্রেরণার উৎস। এখানে ব্যবহৃত শব্দটি, সংস্কৃতে ‘অধিষ্ঠান’ এবং তিব্বতিতে ‘ছিনলাব’, প্রায়শই ‘আশীর্বাদ’ হিসেবে অনূদিত হয়, কিন্তু আমার মনে হয়, ‘অনুপ্রেরণা’ শব্দটি এর অর্থের অধিকতর কাছাকাছি, যা আমাদের উন্নত করে। সকল আর্যের যে যথার্থ রোধ ও সত্য মার্গ-চেতনা গূঢ়তম সংঘরত্ন গঠন করে, তা বোধিলাভক প্রভাবের উৎস। তারা আমাদের তাদের পথে চলতে প্রভাবিত করে।
দৃশ্যমান রত্নের স্তরেও, আর্য ব্যক্তিদের উদাহরণ আমাদের উপর বোধিলাভক প্রভাব ফেলে, যাতে আমরা তাদের দেখানো পথে চলার জন্য কাজ করি, যেমনটা তারা করেছেন। ধর্মোপদেশ আমাদের সেই শিক্ষা অনুসরণ করতে অনুপ্রাণিত করে। বুদ্ধদের সাকার কায় আমাদের নিজেদের এই প্রকৃত সিদ্ধিগুলো অর্জন করার পথ দেখায়।
অন্য দৃষ্টিকোণ থেকে, কে এবং কী আমাদের সাহায্য করবে? বুদ্ধ শাক্যমুনি তাঁর সাকার কায়ে, তাঁর প্রদত্ত প্রকৃত শিক্ষা এবং আর্য সংঘ যারা পথে অগ্রসর হয়েছেন – অর্থাৎ, আপাত তৃতীয় স্তরের রত্নসমূহ।
এই রত্নগুলির প্রতি মনযোগী থাকতে আমাদের কী সাহায্য করবে? তাদের যে প্রতিরূপগুলি আমাদের কাছে রয়েছে: বুদ্ধের চিত্র ও মূর্তি, ধর্মগ্রন্থ এবং ভিক্ষু ও ভিক্ষুণীগণ। তারা আমাদের তাদের নিরাপদ পথে চলতে স্মরণ করিয়ে দেয়। তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে, আমরা আমাদের নিজেদের জীবনে যা করার চেষ্টা করছি, তার প্রতিও সম্মান প্রদর্শন করি।
অধিকন্তু, তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হলো নিজেদের প্রতি সম্মান বিকাশের একটি উপায়, যেহেতু আমরাও এটি অর্জন করার চেষ্টা করছি। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হলো সম্মান, অর্থাৎ আমরা কোনো কিছুর মধ্যে ভালো গুণাবলীকে চিনতে পারি, আমরা সেগুলির প্রশংসা করি এবং আমরা নিজেরাও সেই গুণাবলী অর্জন করতে চাই। এই কারণেই আমি আত্মমর্যাদাবোধের কথা বলছিলাম। আমরা যদি কেবল কারও প্রতি একটি সাধারণ দয়ার কাজের মাধ্যমে তার মুখে হাসি ফোটাতে পারি, তবে আমরা একটি ছোট, ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হই। এই ইতিবাচক কাজটি আমাদের আত্মমর্যাদাবোধ দান করে, যা আত্মমর্যাদার দিকে পরিচালিত করে।
আরও একটি বিষয় যোগ করতে চাই: কারণগতআশ্রয় হলো সেইসব সত্য নিবৃত্তি এবং সত্য মার্গ-চেতনা, যা বুদ্ধ ও আর্যদের মনে উদ্ভূত হয়েছিল; অপরপক্ষে ফলগত আশ্রয় হলো আমাদের নিজস্ব মানসিক ধারায় যা আমরা অর্জন করতে চাই।
আসুন, এই সবকিছু আত্মস্থ করার চেষ্টা করি।
[ধ্যান]
প্রশ্ন
মানসিক স্তরে, আমি বুঝি যে, ভয় এবং বিষণ্ণতা মোকাবেলা করার ক্ষমতা আমাদের আছে, কিন্তু আমার অন্তরের গভীরে এই বিশ্বাসটা নেই। আমি কীভাবে আমার অন্তরের গভীরে এই উপলব্ধি, এই আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে পারি?
এটি একটি খুব ভালো প্রশ্ন। আমরা কীভাবে একটি বৌদ্ধিক উপলব্ধি থেকে একটি প্রকৃত আবেগিক উপলব্ধিতে পৌঁছাতে পারি, যাতে এটি আমাদের মধ্যে একটি রূপান্তর ঘটায়, কারণ আমাদের উপলব্ধির জন্য একটি বৌদ্ধিক এবং একটি আবেগিক উপাদান উভয়ই প্রয়োজন? এই দুটি উপাদান হলো প্রজ্ঞা এবং করুণার মতো, যা সমস্ত ধর্মগ্রন্থে একসাথে প্রয়োজন বলে বলা হয়েছে। সুতরাং, আমাদের এটিকে গুরুত্ব সহকারে নিতে হবে। এই দুটি থাকা কেবল শরণের জন্যই নয়, ধর্মের যেকোনো কিছুর জন্যও গুরুত্বপূর্ণ।
ধর্মে সাধারণত যে উত্তর দেওয়াহয় তা হলো, আমাদের প্রচুর পুণ্যসঞ্চয় করতে হবে। সুতরাং, তখন আমাদের ভাবতে হবে, “আচ্ছা, এর মানে কী? এর মানে কি এই যে, যদি আমরা ভালো কাজ করে যথেষ্ট পয়েন্ট অর্জন করি, তাহলে আমরা এখন এর যোগ্য এবং এটি অর্জন করেছি?” এর মানে অবশ্যই এটা নয়। “পুণ্য”-কে “ইতিবাচক শক্তি” হিসেবে অনুবাদ করা ভালো, যেমন একটি ব্যাটারি চার্জ করা। পর্যাপ্ত চার্জ থাকলে একটি ব্যাটারি সঠিকভাবে কাজ করে; একইভাবে, পর্যাপ্ত ইতিবাচক শক্তি থাকলে আমাদের চিত্ত ধর্মের বৌদ্ধিক ও আবেগিক উভয় প্রকার উপলব্ধির আত্মবিশ্বাস অর্জনের জন্য সঠিকভাবে কাজ করে।
তাহলে, আমরা এই তথাকথিত “পুণ্য” কীভাবে অর্জন করি? উদাহরণস্বরূপ, আমরা এটি অর্জন করি করুণার অনুশীলনের মাধ্যমে। প্রেম, করুণা, অন্যের প্রতি উদ্বেগ ইত্যাদি নিয়ে ধ্যান করলে এই ইতিবাচক শক্তি গড়ে ওঠে। এটি বিকশিত করার একটি নির্দিষ্ট উপায় হলো চারটি অপরিমেয় বিষয়ের উপর ধ্যান করা– অপরিমেয় প্রেম, করুণা, আনন্দ এবং সমতা। প্রায় প্রতিটি অনুশীলনের শুরুতে শরণ, বোধিচিত্ত এবং এই চারটি অপরিমেয় বিষয়ের উপর ধ্যান থাকে। এই চারটি বিষয় নিয়ে আমরা ধ্যান করি, “সকলেই সুখী হোক; তারা সকলেই দুঃখমুক্ত হোক। তারা যেন আনন্দ থেকে কখনও বিচ্ছিন্ন না হয়; এবং তারা সকলেই যেন আসক্তি ও বিকর্ষণ থেকে মুক্ত থাকার সমতা লাভ করে, যা এই অর্জনগুলোকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।”
এই ধ্যান কী করে? এটি ইতিবাচক আবেগ দিয়ে আমাদের হৃদয় ও চিত্তকে উন্মুক্ত করে দেয়। তারপর, সেই মানসিক অবস্থা নিয়ে, যখন আমরা ধর্মের কোনো জটিল বিষয়ের সম্মুখীন হই, তখন আমরা আরও উন্মুক্ত থাকি এবং তা আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি। “আমি, আমি, আমি, আমি এটা বুঝতে পারব না” বা “আমাকে এটা বুঝতেই হবে”—এই ধরনের বদ্ধ চিত্ত নিয়ে কোনো কঠিন বিষয়ের সম্মুখীন হওয়া এবং আগে থেকেই চারটি অপরিমেয় বিষয় দিয়ে আমাদের হৃদয় ও মনকে উন্মুক্ত করে, তার সম্মুখীন হওয়ার মধ্যে অনেক বড় পার্থক্য রয়েছে। বিশাল পার্থক্য!
তাই অনুগ্রহ করে এই ধ্যানগুলো চেষ্টা করে দেখুন এবং কোনো পার্থক্য অনুভব করেন কিনা তা লক্ষ্য করুন। তাহলেই আমরা বুঝতে পারব কেন প্রতিটি অনুশীলন ও অধ্যয়নের শুরুতে চারটি অপরিমেয় বিষয়ের উপর ধ্যান রাখা হয়েছে। এটি ইতিবাচক শক্তি সঞ্চয় করে, আমাদের মন ও হৃদয়কে উন্মুক্ত করে দেয়, যাতে আমরা সম্পূর্ণরূপে বুঝতে পারি। এবং আমাদের এই উপলব্ধির একটি মানসিক প্রভাবও থাকবে।
আমার কয়েকটি প্রশ্ন আছে। প্রথমত, সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিতে অন্যের প্রতি করুণা এবং নিজের প্রতি করুণার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য কীভাবে খুঁজে পাওয়া যায়? দ্বিতীয়ত, আমি কি এটা ঠিকভাবে বুঝতে পারছি যে, সংঘাতের ক্ষেত্রে মূল বিষয় হলো রাগ না করা, বরং নিজের সীমা এবং স্বার্থ রক্ষা করা? এবং এই বিষয়ে আরেকটি বিষয় হলো, আপনি যদি অন্য ব্যক্তিকে সংশোধন না করেন, তাহলে আপনি রেগে যান, কিন্তু যদি আপনি তাদের সংশোধন করেন, তাহলে তারা রেগে যেতে পারে, যা আমরা নিজেদের মধ্যে দমন করার চেষ্টা করি?
এখানে একটি খুব নির্দিষ্ট উদাহরণ দেওয়া হলো: আমার একজন কিশোর বয়সী ছেলে আছে যে প্রতিদিন স্কুলে যায়, আমি কাজে যাওয়ার আগে, বাড়ি ফেরার জন্য দুই বেলার খাবার তৈরি করে রাখি, একটি তার জন্য এবং একটি আমার জন্য। সে বাড়ি ফেরার পরে আমি ফিরে এসে দেখি যে সে দুই বেলার খাবারই খেয়ে ফেলেছে। তারপরের দিনও একই ঘটনা ঘটে। প্রশ্নটি হলো: আমার কি তাকে এই বিষয়ে বলা উচিত, তাকে ব্যাখ্যা করা উচিত এবং জোর দেওয়া উচিত যে সে যেন শুধু এক বেলার খাবারই নেয়? কারণ আমি যদি তা করি, তাহলে এই বিষয়টি নিয়ে তার মধ্যে অশান্তকারী আবেগ তৈরি হবে।
আমরা সাধারণভাবে কথা বলতে পারি, অথবা এই নির্দিষ্ট উদাহরণটির উল্লেখ করতে পারি। এই নির্দিষ্ট উদাহরণে, যদি আপনার ছেলে দুটো ভাগই খেয়ে ফেলে, তাহলে এর মানে হয় সে খুব ক্ষুধার্ত, অথবা সে খুব লোভী। তাই, যদি সে সত্যিই ক্ষুধার্ত থাকে, তাহলে আরও খাবার তৈরি করুন। আর যদি সে শুধু লোভী হয়, তাহলে আপনাকে খাবারের ভাগগুলো আলাদা করে রাখতে হবে। আপনার ছেলের জন্য এক ভাগ খাবার রেখে দিন, যে পরিমাণ তার পেট ভরার জন্য যথেষ্ট হবে, এবং কোনোভাবে আপনার নিজের ভাগটা লুকিয়ে রাখুন। এমন কোথাও রাখুন যেখানে আপনার ছেলে পাবে না। যদি আপনার মাইক্রোওয়েভ থাকে, তাহলে ওটা ফ্রিজারে রেখে দিন, এবং তারপর বাড়ি ফিরে মাইক্রোওয়েভ করে নিন। মূলত, আপনাকে একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত সমাধান খুঁজে বের করতে হবে।
তাহলে, কৌশলী উপায় অবলম্বন করব?
হ্যাঁ, কৌশলী উপায় অবলম্বন করুন। তবে সাধারণভাবে, করুণার সাথে কৌশলী উপায় প্রয়োগ করার আগে, আমাদের প্রথমে নিজেদের প্রতি করুণা গড়ে তুলতে হবে। একেই বলা হয় “ত্যাগ” – অর্থাৎ আমাদের নিজেদের সমস্যা থেকে মুক্ত হওয়ার সংকল্প। এর ভিত্তিতেই আমরা তা অন্যদের দিকে ফেরাতে পারি, এই কামনা করে যে, তারাও যেন সমস্যা থেকে মুক্ত হতে পারে। এভাবেই সাধারণত আমরা করুণা গড়ে তুলি। যদি আমরা অনুভব করি যে আমরা সুখী হওয়ার যোগ্য নই, তাহলে অন্যরা কেন সুখী হওয়ার যোগ্য হবে? একবার যখন আমাদের মধ্যে করুণার এই ধরনের সঠিক প্রেরণা তৈরি হয়, তখন আমরা রাগ না করেই কৌশলী উপায় প্রয়োগ করতে পারি।
তবে, আপনি একটি সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতি সম্পর্কেও জিজ্ঞাসা করেছেন। সুতরাং, এমন সংঘাতপূর্ণ পরিস্থিতিও আছে, যেখানে আমাদের একটি মতামত থাকে, এবং অন্য ব্যক্তিরও একটি মতামত থাকে, এবং সেগুলো বেশ ভিন্ন হয়; তখনই আমাদের মধ্যে সংঘাত বা তর্ক হতে পারে। এখন, সাধারণভাবে সংঘাত নিরসনের জন্য কিছু পরামর্শ– যে কৌশলটি কাজ করে না তা হলো আত্মরক্ষামূলক হওয়া এবং নিজের অবস্থানকে রক্ষা করা। এটি অনিবার্যভাবে অন্যের অবস্থানকে আক্রমণ করার দিকে নিয়ে যায়, যা তখন তাদের আত্মরক্ষামূলক হতে বাধ্য করে। এতে কোনো লাভ হয় না; বরং এটা আমাদেরকে একটা সত্যিকারের তর্কে জড়িয়ে ফেলে। তাই, যে কৌশলটির পরামর্শ দেওয়া হয়, এবং যা প্রায়শই কাজ করে, তা হলো, যখন অন্য ব্যক্তি সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো সমাধান বা কাজ করার সম্পূর্ণ ভিন্ন কোনো উপায় উপস্থাপন করেন, তখন আমরা তাকে তা ব্যাখ্যা করতে বলি। হতে পারে তিনিই ঠিক! আমরা তার চিন্তাভাবনা এবং অবস্থানের পেছনের কারণটি জানার চেষ্টা করি। এক অর্থে, আমরা নিজেদের গুটিয়ে না নিয়ে বা আত্মরক্ষামূলক না হয়ে বরং মন খুলে কথা বলি।
যখন আমরা তাদের অবস্থান কী এবং তারা কেন সেভাবে চিন্তা করে তা জানার জন্য মন খুলি, তারপরেও যদি আমাদের মনে হয় যে আমাদের অবস্থানটিই শ্রেয়, তখন আমরা শান্তভাবে আমাদের চিন্তাভাবনা ব্যাখ্যা করি। শুধু এই বলে নয় যে, “আচ্ছা, আমি ঠিক আর তুমি ভুল।”
তবে, এটা সবসময় কাজ করে না, কারণ অন্য ব্যক্তিকেও ব্যাখ্যা দেওয়া এবং নেওয়ার জন্য মন খোলা রাখতে হয়। তারা খুব একগুঁয়ে হতে পারে এবং বলতে পারে, “আচ্ছা, আপনি বুঝতে পারছেন না,” বা “আমার এমনিই মনে হয়।” তখন পরিস্থিতিটা খুব কঠিন হয়ে যায়। তাই, এটা সবসময় কাজ করে না। অন্য ব্যক্তিকেও সহযোগিতা করতে হয়। তবে, আমি যে পদ্ধতির কথা বলেছি, তাতে আমরা অন্তত শান্ত থাকতে পারি। এটা একটা শুরু।